বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০১৪

আজকে সকালে আমার ফেসবুকের এক বন্ধু এই ছবিটি ফেসবুকে প্রকাশ করেছে । সে এই ছবিটির সাথে লিখেছে যে তার ইচ্ছে ছিলো যে একে ইচ্ছা মতন শিক্ষা দিতে । পা বেধে মাথা নিচের দিকে করে ঝুলিয়ে রাখতে । এখন তার প্রতি আমার প্রশ্ন এই যে চোর সে কি মানুষ না ?? কোন মানুষ কি পারে অন্য আরেকজন মানুষ কে এভাবে শাস্তি দিতে ? সে হয়ত চুরি করেছে তাই বলে এই ছোট বাচ্চাটাকে এত বড় শাস্তি ?? এই হল তার পোস্টের লিংক https://www.facebook.com/photo.php?fbid=1575294202696808&set=pcb.1575297106029851&type=1&theater
আমরা প্রায়ই এমন ঘটনা দেখতে পাই । কিন্তু আমরা কি কখন জানতে চেয়েছি কেন এই ছোট বাচ্চাগুলো চুরি করার মত খারাপ কাজ  করতে চায় ? অবশ্যই কোন কারন ছাড়া তারা এই পথ বেছে নিত না । এই শিশুটির বয়স দেখলেই বুঝা যায় এটা তার স্কুলে যাবার , পড়ালেখা শুরু করার বয়স । তাহলে সে এই চুরির পথে এসেছে তার কারন হল তার হয়ত ঘরে কোন খাবার নেই বা অন্য কোন বড় সমস্যা । আমরা এই সহজ জিনিসটা কেন বুঝতে চাই না ? আমরা যদি তাদের সাথে ভালভাবে কথা বলে তাদের সমস্যা অল্প হলেও সমাধানের চেষ্টা করতাম তাহলে একদিন এই ছবি আর আমাদের দেখতে হবে না । আসুন আমরা সবাই এগিয়ে এসে এই সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করি এবং আমাদের বন্ধুদের ও এই ব্যাপারে জানাই ।
হয়তো তারা একই বয়সী। কেউ জন্মগত ভাবে একটু সচ্ছল আর কেউ ঠিকমতো খেতে পায় না।কারো স্কুলে যাবার সামর্থ্য আছে কারো নেই। কিন্তু তাই বলেকি তাদের কোন অধিকার নেই? তারাও তো মানুষ তারাও চায় সুন্দরভাবে বাঁচতে।
তারা তাদের সমবয়সীদের স্কুলে যেতে দেখে আর নীরবে কাদেঁ আর নিজেদের ভাগ্য কে দোষ দেয়।
আর কতোকাল এভাবে বঞ্চিত থাকবে তারা। তাদের পাশে দাড়ানোর মত কী কেও নেই?তারা কি এভাবেই বড় হবে আর বড় হয়ে এখন যেভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হলো ঠিক পরে নিজের সব অধিকার নেয্য পাওনা থেকে সহজেই বঞ্চিত করা হবে।
আর আমরা যদি তাদের পাশে দাড়াই সবাই মিলে এদের জন্ন্যে কিছু করার অঙ্গিকার করি তাহলে কী এই বঞ্চিত মানুষগুলোর মুখে একটু হাসি দেখতে পাবো না?
হয়তো অনেকে বলবেন আমার কী এতো টাকা আছে যে এদের স্কুলে পড়াবো?
এর জন্ন্যে নিজের সদিচ্ছা প্রয়োজন টাকা পয়সার না।
যা পারি যতটুকু পারি তাদের জন্ন্যে মন থেকে করবো। নিজে একা না পারি একটা টিম করি অথবা কিছু ফ্রেন্ড মিলে করি। তাও তাদেরকে তাদের অধিকার আদায় এ সাহায্য করি।
মনে রাখবেন মুঠো মুঠো বালু দিয়ে একটা মরুভূমি হয়।
আমরা সবাই সচেতন কিন্তু তাদের প্রতি তাদের অধিকার আদায় এ আমরা কতটুকু সচেতন?
আসুন আমরা সবাই মিলে নতুন কিছু করার চিন্তা ভাবনা করি। সমাজটা শুধু আমাদের না তাদেরও।
 

Credit: Sagar Elegent

বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০১৪

একটি জীবন এর গল্প...............


সেলুন এ বসে আছি। হঠাৎ এক মহিলা আসলো ভিক্ষা করতে ...মনে হলো যেন আগে ও কোথাও দেখছি...। দোকান এর মালিক  তাকে কিছু টাকা দিয়ে জিজ্ঞেস করলো তার ছেলের কি অবস্থা এখন? তখন চিনলাম তাকে......এক সময় তার ছেলে কে নিয়ে ভিক্ষা করতো রাস্তায়(ছেলে টা শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধী)......কিন্তু পরক্ষনেই তার কথা শুনে আমি অবাক হয়ে গেলাম। দোকান এর মালিককে বলতেছে "ভাই, ছেলে টা এইবার ক্লাস ১০ এ উঠছে তো তাই ওরে নিয়া আর বের হই না...ও বাসায় বসে পরে"(hats off)......ভিক্ষা করে ও যে তার বাচ্চাকে পড়ায় কতটুকু সম্মান যে তার প্রাপ্য তা আমার জানা নেই...।

মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০১৪

হাত টি বাড়ান

হাত টি বাড়ান। পথ শিশুদের সাহায্য করুন। দুটি ভালো কথা তাদেরকে শুনান। আপনি কলেজে ভার্সিটিতে পড়ে দলবাজি করে মানুষকে পিটাতে পারেন, চাদাবাজি করতে পারেন, ত্রাস সৃষ্টি করতে পারেন শিক্ষিত হয়েও।
আর ওই পথ শিশুরা তো অশিক্ষিত, নোংরা পরিবেশে পড়ে থাকে সারাক্ষণ তাদেরকে যদি আমি আপনি না শেখায় বা না সাহায্য করি তবে কিভাবে আমরা তাদেরকে ভালো করে গড়ে তুলব?

আপনি ভার্সিটিতে পড়েন, কলেজে পড়েন ... রাস্তার অনাথ এই শিশুগুলোর কোনটিকে একটু কাছে ডেকে এনে দুই টাকার ঝালমুড়ি কিনে দেন বা দুটো ভালো কথা বলেন, কেমন আছে জিগ্গেস করেন দেখবেন ওরা কত্ত খুশি হয়। হতে পারে এত টুকুই আপনার জান্নাতের জন্য ওসিলা হয়ে যেতে পারে।

চোর হয়ে, নেশাখোর হয়ে তো ওরা জন্ম নেয়নি। বরং আমাদের অবহেলা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আর পরিবেশ তাদেরকে এমন করেছে।
আমাদের উপর তাদের হক আল্লাহ লিখে রেখেছেন। আমাদের উচিত সেই হক আদায়ে সচেষ্ট হওয়া। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

সোমবার, ১০ মার্চ, ২০১৪

রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছি...অনেক গুলো লোক হাটছে পিছনে...হঠাৎ কোনো এক কথা ভেবে থেমে গেলাম...কিছু ক্ষণ তাকিয়ে দেখলাম আমার পিছনের লোকটি আমার সামনে চলে যাচ্ছে...ফলে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্গলা।।

রাস্তায় চলার সময় গাড়ি গুলোও এই রকম সমস্যার সৃষ্টি করে...নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া কোনো জায়গায় গাড়ি থামালে পরের জন তাকে ফেলে যাওয়ার চিন্তা করে...ফলে সৃষ্টি হয় সমস্যার।। তাই আমি মনে করি দোষটা আসলে ঐ প্রথম ব্যক্তির...আর মিডিয়াতে ওভারটেক করার tendency র কথা কম বলে নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি রাখার প্রতি আহ্বান জানানো নিয়ে আরও প্রচার বাড়ানো দরকার...............

শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০১৪

আমাদের সমাজে এই চিত্র খুবই সাধারন । আমরা প্রতিনিয়ত এই চিত্র দেখে থাকি । কিন্তু আমরা কি কখনো ব্যাপার টা নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখেছি ? কেনো আমাদের সামনে এভাবে একদল শিশু হাসতে হাসতে স্কুলে যাবে , আর কেনো আরেকদল তা দেখবে আর কষ্ট নিয়ে থাকবে ?
তারা গরীব তাই বলে , নাকি তাদের বাবা-মায়ের পড়ানোর সামর্থ্য নেই তাই , নাকি আমরা সমাজের তথাকথিত অ-সামাজিক জীবগুলোর কারনে তাদের আজ এই অবস্থা ? আমাদের সবার ক্ষুদ্র প্রয়াসের মাধ্যমে আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারি । কি পারি না ? আমরা ছোটবেলায় সারমর্মে পরেছি নিশ্চই "ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা , বিন্দু বিন্দু জল ; গড়ে তোলে মহাদেশ , সাগর অতল ।"
আমাদের মহাদেশ ও গড়তে হবে না আর সাগর ও না । আমরা সবাই একসাথে মিলে কাজ করলে আমাদের সমাজে পরিবর্তন আনতে খুব বেশি সময় লাগবে বলে আমার মনে হয় না । আর আমাদের দেখে অন্যরাও এতে আগ্রহী হতে পারে । যা আমাদের সমাজের জন্য খুবি দরকারি এবং যা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও অনেক বেশি প্রয়োজন । তাই এস আমরা সবাই মিলে সমাজের পরিবর্তনে এগিয়ে আসি । আর এ কাজে সবাই সাদরে আমন্ত্রিত ।

বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

জীবনের দৌড়ে আমরা ঘোড়ার চেয়েও দ্রুত দৌড়াই তাই বলে কি.........



কিছু একটা লিখব ভেবেছি কিন্তু কি লিখব তা ভাবি নি। এখন ভাবছি ভাবতে ভাবতে একটা কথা মনে পরে গেল আমরা সবাই আসলে নিজের জীবনের পিছনে এত তাড়াতাড়ি দৌড়াই যে ঘোড়দৌড় এর ঘোড়াও হয়ত হার মানতে বাধ্য হবে।দৌড়াতে দৌড়াতে এক সময় হয়ত ঘোড়া থেমে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে শুরু করবে “এত দৌড়াতে পার কিভাবে?।” কিন্তু সেই প্রশ্ন টুকুও শোনার সময় হয়ত আমাদের থাকবে না। সেই মানুষগুলোর তো আর আমার মত খুদ্র মানুষের অমূল্যবান কথা শোনার সময় হবে না। তবুও আমি বলে যাব। আমরা কিছু তরুন আমাদের সাধ্যমত আমাদের অমূল্যবান সময়গুলকে কাজে লাগাতে চেয়েছি তাই আমরা কিছু গরীব ছাত্রের পাশে দাঁড়িয়েছি,সমাজের ছোট ছোট কিছু কাজে এগিয়ে এসেছি । আমি বা আমরা আপানার কাছ থেকে কোন সাহায্য চাই না। তবে আপনি যদি সরাসরি আমাদের সাথে কাজ করতে চান তাইলে আমন্ত্রিত। তবে আপনার কাছে আমার একটা বড় চাওয়া আপনি নিজের বাড়ির কাজের ছেলেকে স্কুলে পড়াতে না পারেন, ছেলেটাকে একটা কলম আর খাতা কিনে দেন।তাও যদি না পারেন নিজের পুরোনো একটা খাতা আর কলম দিয়ে দেন। আপনার সময় না থাকলে ছোট ভাই কিংবা বোনকে বলেন ও যাতে নিজের খেলার ৩০ মিনিট সময় নষ্ট করে ওই গরীব ছাত্রকে পড়ায়। নিজের বাসার পাশে যেই ছেলে পড়তে চায় কিন্তু অর্থের অভাবে পড়তে পারে না তাকে একটা কলম কিনে দিন। একটা সিগারেটের টাকা দিয়ে একটা কলম কিনে দিয়ে দেখেন কিংবা একটা লিপস্টিক কিনার টাকা দিয়ে একটা পড়ার বই কিনে দিয়ে দেখেন।দেখুন মনে কি তৃপ্তি পাবেন। এখন হয়ত বলবেন আমি কয়জনকে সাহায্য করেছি?এই দেশের পড়ালেখা করে কি লাভ? ব্লা ব্লা ব্লা...... আমি কতটুকু করেছি তা আল্লহ জানলেই হবে আর পড়ালেখা করে যদি না লাভ হয় তাইলে আপনে পড়ালেখা ছাড়ছেন না কেন?? হয়ত অনেক কথা বলে ফেলেছি আসলে কাউকে ব্যাঙ্গ করতে এই কথাগুল বলি নি,কাউকে মনে কষ্ট দিতেও বলি নি। পরিশেষেঃ অর্থ দিয়ে মানুষকে সাহায্য না করতে পারলেও ছোট্ট একটা খুদ্র কাজ করেও মানুষকে সাহায্য করতে পারেন। এখন প্রশ্ন হতে পারে কিভাবে? উত্তর আজ থেকে ময়লা যেখানে সেখানে ফেলবেন না। এই ছোট্ট কাজটাও মানুষের উপকারে আসবে। আমিও প্রতিজ্ঞা করছি আমিও আজ থেকে ময়লা যেখানে সেখানে ফেলব না।আমি কথা গুছিয়ে বলতে পারি না। তাই ভুল হলে কিংবা কারো মনে কষ্ট লাগলে ক্ষমাপ্রার্থী।নিজ গুনে ক্ষমা করে দিবেন।